• মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন |
  • English Version
ব্রেকিং নিউজ :
জামালপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে যৌথবাহিনীর মহড়া অনুষ্ঠিত বিএনপির সমপর্যায়ে কোন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নেই- ওয়ারেছ আলী মামুন জামালপুরে শুভ পাঠানের নেতৃত্বে ধানের শীষ প্রতীকে পক্ষে প্রচার মিছিল ও আলোচনা সভা জামালপুরে আসন্ন রমজান উপলক্ষে দোস্ত এইডের ৫০০ ফ্যামিলি ফুড প্যাকেট বিতরণ জামালপুর সহ ৩ জেলায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে — ৩৫ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান, পিএসসি মোবারক আলী ওরফে মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের পক্ষ নিয়ে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করাসহ দুর্নীতির অভিযোগ জামালপুর সদরে ৫ আসনে তৃণমূল ভোটারদের মন জয় করতে ব্যস্ত ফুটবল প্রতীকের মাসুদ ইব্রাহীম জামালপুর সদরে ৫ আসনে ফুটবল প্রতীকে ভোট প্রার্থনায় স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী মাসুদ ইব্রাহীম আজ জামালপুরে নির্বাচনী জনসভায় আসছেন আমীরে জামায়াত ডাঃ শকিকুর রহমান জামালপুরে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইলেন জিয়া সাইবার ফোর্সের কেন্দ্রীয় নেতা এম.শুভ পাঠান

শত কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন পাল্টে গেছে মেলান্দহ পৌরসভার চিত্র, বেড়েছে নাগরিক সুবিধা

 

সাইমুম সাব্বির শোভন:

মেলান্দহ পৌরসভাকে আধুনিক পৌরসভা গড়তে সড়ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সড়কবাতি, সুপেয় পানি সরবরাহে নতুন পাইপ লাইনসহ ইলেক্ট্রো মেকানিক্যাল পাম্পহাউজ স্থাপন, আধুনিক পানি শোধনাগার নির্মাণ, ৪২টি নলকূপ, ১৬৫টি অগভীর নলকূপ স্থাপন, দরিদ্র জনগোষ্ঠির ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণে স্কুল স্থাপনসহ শত কোটি টাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন ও চলমান রয়েছে। গত ৫ বছরে শত কোটি টাকা ব্যায়ে এসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং কিছু প্রকল্প চলমান রয়েছে। এতে পাল্টে গেছে মেলান্দহ পৌরসভার চিত্র। বৃদ্ধি পেয়েছে নাগরিক সুবিধা। এই উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখতে পৌরবাসীর সহায়তা চেয়েছেন মেয়র শফিক জাহেদী রবিন।
মেয়র মো: শফিক জাহেদী রবিন জানান, তিনি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বিগত পাঁচ বছরে মেলান্দহ পৌরসভার ব্যাপক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে পৌর নাগরিকদের সেবার মান বাড়াতে পেরেছেন। পৌরসভার বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন, রাস্তাঘাট, ড্রেন, কালভার্ট সংস্কার ও নির্মাণ, সড়কবাতি স্থাপন, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণের মাধ্যমে বিদ্যুৎ খরচ কমিয়ে আনা, শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে টারসিয়ারি ড্রেন, সেকেন্ডারি আরসিসি ড্রেন, বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসার সংস্কার ও উন্নয়নসহ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে সুপেয় পানি সরবরাহ উন্নয়নে।

তিনি বলেন, পৌর নাগরিকদের জন্য সার্বক্ষণিক আর্সেনিকমুক্ত সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য ইতিমধ্যে দুই কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৫ দশমিক ৪১ কিলোমিটার পানির পাইপলাইন স্থাপন, ৯১ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ব্যয়ে দুটি উৎপাদক নলকূপ, চারটি পরীক্ষামূলক নলকূপ ও একটি ইলেক্ট্রো মেকানিক্যাল পাম্পহাউজ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে ঘন্টায় ১৮৩ ঘনমিটার ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন পাঁচ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে আধুনিক পানি শোধনাগার নির্মাণ প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। এছাড়াও পৌরসভার চারটি দরিদ্র এলাকা চিহ্নিত করে দরিদ্রদের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আরসিসি রাস্তা, সড়কবাতি, স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য ১৫৫টি পাকা টয়লেট, সুপেয় পানির জন্য ৪২টি নলকূপ স্থাপন করেছি। এছাড়াও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তিদেরকে ১৬৫টি গভীর নলকূপ সরবরাহ করা হয়েছে।

রবিন বলেন, পৌরসভার অবকাঠামোগত উন্নয়নে ৪২ কোটি টাকা, ভুমি অধিগ্রহণের জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বর্তমানে ভুমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া জামালপুরের ৮ পৌরসভা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পৌরসভা ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক স্থাপনের জন্য ২৭ কোটি টাকা ও ১১.০৫৩ কিলোমিটার টারসিয়ারী ড্রেন, সেকেনডায়ী ড্রেন স্ল্যাপসহ আরসিসি ড্রেন নির্মানের জন্য ১৭ কোটি টাকা যা দ্রুতই কাজ শুরু করা যাবে।

তিনি আরও বলেন, মেলান্দহ বাজার ও রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে চারটি আধুনিক পাবলিক টয়লেট এবং বিভিন্ন স্থানে আরো ১২টি কমিউনিটি পাবলিক টয়লেট স্থাপন করা হয়েছে। নারী-পুরুষ বৈষম্য দূরকরণ, অসচ্ছল নারীদের সেলাই কাজের প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন বিতরণসহ সামাজিক নিরাপত্তামূলক বিভিন্ন উন্নয়ন ও সেবামূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করে নাগরিকদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। এতে মেলান্দহ পৌর নাগরিকদের সেবার মান কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে।

পাঁচ বছর আগে পৌর কর্মচারীদের বেতন ও উন্নয়ন কাজের বকেয়াসহ প্রায় কোটি টাকা ঋণের বোঝা ঘাড়ে নিয়ে দায়িত্বভার গ্রহণের কথা উল্লেখ করে বলেন, পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়ন এবং কোন প্রকার অনিয়মের সুযোগ না দিয়ে, অযাচিত ব্যয় কমিয়ে বা ব্যয় সাশ্রয় করে পৌর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করার পরও বর্তমানে পৌরসভার রাজস্ব তহবিলে ৪৬ লাখ ১৩ হাজার ৩৭২ টাকা স্থিতি রেখে যেতে পারছি।
পৌরসভার নিয়ন্ত্রাধীন মেলান্দহ বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী শহীদ বলেন, আগের সামান্য বৃষ্টিতেই বাজারে হাটু পানি জমে থাকতো। মানুষের যাতায়াত ও ব্যবসা বানিজ্য করতে সমস্যা হতো। এখন বাজারের চার পাশে পাকা তড়ক ও পাকা ড্রেন করায় এখন আর পানি জমে না। মানুষেরও কষ্ট হয়। এছাড়া সড়ক বাতি দেয়ায় চুরি ছিনতাই অনেকটাই কমে গেছে।
তারা আরো বলেন, এই উন্নয়ন ধারা অব্যাহত থাকলে মেলান্দহ পৌরসভার নাগরিকরা আরো বেশী সেবা ও সুবিধা পাবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।