ফজলে এলাহী মাকাম, জামালপুর ঃ
জামালপুরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের লাইনে দাড়িয়ে সুশৃঙ্খলভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে দেখা গেছে। জেলার ৫টি সংসদীয় আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন দলের ও স্বতন্ত্রসহ মোট ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দীতা করছেন। সকালে জামালপুর সদর ৫ আসনে দেওরপাড় চন্দ্রা এলাকায় ভোট প্রদান করেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সদর ৫ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের এমপি প্রদপ্রার্থী এডভোকেট ওয়ারেস আলী মামুন। এছাড়া সিংহ জানি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে জামালপুর জেলা জামায়াতের সভাপতি ও সদর আসনের এমপি কত প্রার্থী আব্দুস সাত্তার ভোট প্রদান করেন। ভোট কেন্দ্রগুলো ঘুরে ভোটারদের স্বতঃ উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
মাছিমপুর এলাকার তানজিম ইসলাম জানান দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোট প্রদান করতে পেরে ঈদের মতন উৎসব মনে হচ্ছে।
পাথালিয়া এলাকার জুয়েল হক জানান, দীর্ঘদিন পর ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পেরে খুবই আনন্দিত, আমরা চাই এই ভোট প্রদানের মাধ্যমে আগামী একটি সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গঠন করবে এই নির্বাচিত সরকার।
সিংহজানি এলাকার নাসরিন বেগম জানান, আগে ভোট দিতে পারিনি এবার ভোট দিতে পেরে খুবই ভালো লাগছে আমরা চাই নারীদের অধিকার বাস্তবায়নে ও নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করবে এমন একজন নির্বাচিত হোক। এবারের নির্বাচনে মোট ২১ লাখ ৩৫ হাজার ৯৮ জন জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৭ জন, মহিলা ভোটার ১০ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮১ জন ও হিজড়া ভোটার ২০ জন। ৫টি সংসদীয় আসনে ৩৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৫ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ৫টি নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি কাজ করছে। পুরো জেলায় ১ হাজার ৬৫০ জন পুলিশ সদস্য, ১৬ প্লাটুন বিজিবি সদস্য ও র্যাবের ৬টি টহল টিম ও ১টি রিজার্ভ টহল টিম মোতায়েন রয়েছে। ৫টি উপজেলায় ৬শতাধিক সেনাসদস্য স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েনে রয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ১৩ জন করে ৮ হাজারের বেশী আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছে। সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।